রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন নিউজ :: করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। তাই মাস্ক না পড়ে রাস্তায় বের হওয়ার অভিযোগে কর্ণাটকে সিআরপিএফ’র বাহিনীর কোবরা ব্যাটেলিয়নের এক কমান্ডোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হল থানায়। এই কোবরা ফোর্সকে দেশটির মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মোতায়ন করা হয়। এ ঘটনার ছবি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সিআরপিএফ’র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল চিঠি পাঠিয়ে কর্ণাটক পুলিশের ডিজিপি প্রভীন সুদের কাছে এই ঘটনার কারণ জানতে চেয়েছেন।
এছাড়াও এতে জড়িত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে তারা এফআইএর করারও চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন।
স্থানীয় সূত্র মতে, কোবরা ব্যাটেলিয়নের ওই সদস্যের নাম সচিন সাওয়ান্ত। কর্ণাটকের বেলাগাভি শহরের তার বাড়ি। ছুটিতে নিজ বাড়িতেই ছিলেন সচিন।
গত ২৩ এপ্রিল মাস্ক না পরে রাস্তার ঘোরার সময় দুইজন কর্তব্যরত দুই পুলিশ কনেস্টবল তাকে আটক করেন। তিনি মাস্ক না পরে রাস্তায় কেন ঘুরছেন তা জিজ্ঞাসা করেন। এর উত্তরে ওই পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। এ সময় সচিন তাদের বাজে ভাষায় গালি দেন বলে দাবি করে পুলিশ।
সচিন আরো বলেন, ‘আমি একজন সিআরপিএফ সেনা। আপনারা আমাকে কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না। আমি আপনাদের নির্দেশ কখনই মানব না।’ এরপর তিনি ওই পুলিশকে লাথি মারেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
সিআরপিএফ’র পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া কর্ণাটকের ডিজিপিকে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ওই সিআরপিএফ কমান্ডোর সঙ্গে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ স্টেশনে খালি পায়ে অমানবিকভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ওই সেনা সদস্য যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করার আগে সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ জানানো উচিত ছিল। তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হোত না।
এদিকে সচিনের পরিবারের দাবি, সচিন নিজের বাড়ির সামনে বাইক পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে গন্ডগোল শুরু করেন। তাকে মারধর করার সঙ্গে সঙ্গে খালি পায়ে থানায় নিয়ে গিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। এই ঘটনায় সমস্ত সিআরপিএফ সেনাকে অপমান করা হয়েছে।
২৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার এই বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানানো হবে।